একটা ছোট শহরের ছেলে আরিফ। বাবা একজন প্রাইভেট কোম্পানির কর্মচারী, মা গৃহিণী। ছোটবেলা থেকেই আরিফের স্বপ্ন ছিল একদিন বড় হয়ে সরকারি চাকরি করবে। মা-বাবা বলতেন—“বাবা, যদি একটা সরকারি চাকরি পেয়ে যাও, তাহলে আমাদের আর কষ্ট থাকবে না।”
কিন্তু সমস্যা হলো, আরিফ পড়াশোনায় খারাপ ছিল না, তবুও তার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা ছিল সাধারণ জ্ঞান। গণিত, ইংরেজি, এমনকি বাংলা—সব কিছুতেই সে মোটামুটি পারত, কিন্তু যখনই পরীক্ষায় সাধারণ জ্ঞান অংশ আসত, তখন তার হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যেত।
প্রথমবার BCS প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অংশ নিল সে। স্বপ্ন ছিল ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার না হলেও, একটা ক্যাডার সার্ভিসে ঢুকবে। কিন্তু ফলাফলে দেখা গেল—তার সাধারণ জ্ঞান অংশে মাত্র ১২ নাম্বার এসেছে। আরিফ কেঁদে ফেলল। মনে হলো, তার সব পরিশ্রম বৃথা গেল।
এরপর সে আরও কিছু পরীক্ষা দিল—ব্যাংক, প্রাইমারি, NTRCA। প্রতিবার একই জায়গায় এসে হোঁচট খেল। সাধারণ জ্ঞানের বিশাল সমুদ্র দেখে মনে হতো—এটা কোনো মানুষ মুখস্থ করতে পারে না। অনেক বই কিনল সে। কারও বই ১০০০ পৃষ্ঠা, কারও ১৫০০ পৃষ্ঠা। কিন্তু যত পড়তে গিয়েছে, ততই বিভ্রান্ত হয়েছে।
একদিন হঠাৎ লাইব্রেরিতে বসে থাকতে থাকতে তার চোখে পড়ল একটা বই—“খন্দকার GK”। কভারটা খুব সাদামাটা, কিন্তু নামটা কেমন যেন টানল। বইটা হাতে নিয়ে প্রথমেই যেটা খেয়াল করল, সেটা হলো ভাষা। এত সহজ ভাষায় সাধারণ জ্ঞান লেখা হয়েছে যে মনে হলো বন্ধুর সাথে গল্প করছে।
আরিফ বইটা নিয়ে বাড়ি গেল। প্রথম দিনেই ২০ পৃষ্ঠা পড়ে ফেলল, আর অবাক হলো—এতদিন যেসব জিনিস কঠিন মনে হতো, সেগুলো আসলে কত সহজভাবে শেখা যায়!
—
কেন খন্দকার GK অন্যসব বইয়ের থেকে আলাদা?
১. সহজ ভাষা
অন্য অনেক বইয়ে তথ্যগুলো এমনভাবে লেখা থাকে যে মনে হয় হুবহু এনসাইক্লোপিডিয়া থেকে তুলে দেয়া। কিন্তু খন্দকার GK একদম সহজ-সরল ভাষায় লেখা। যেমন, “জাতিসংঘের জন্ম কবে?”—শুধু উত্তর নয়, তার পেছনের ছোট্ট গল্পও থাকে। ফলে পড়তে পড়তে মনে হয় না মুখস্থ করছি, বরং বুঝে নিচ্ছি।
২. প্রশ্ন-উত্তর ফরম্যাট
এ বইয়ের বড় সুবিধা হলো—অধিকাংশ তথ্য প্রশ্ন-উত্তর আকারে সাজানো। যেমন, “বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি কে?”—প্রশ্ন, উত্তর দুটোই একসাথে দেখে মস্তিষ্কে একটা চিত্র তৈরি হয়। পরীক্ষার হলে এই স্টাইলেই প্রশ্ন আসে, তাই প্রস্তুতিটাও সঠিকভাবে হয়।
৩. আপডেটেড তথ্য
অনেক বইয়ের সমস্যা হলো—তথ্য পুরনো। কিন্তু খন্দকার GK প্রতি এডিশনেই আপডেটেড থাকে। নতুন নির্বাচন, নতুন রাষ্ট্রপতি, আন্তর্জাতিক ঘটনা—সবই যোগ হয়। ফলে ছাত্ররা পুরনো তথ্য নিয়ে বিভ্রান্ত হয় না।
এই বইটি কিনতে চাইলে নিচের বইয়ে ক্লিক করুন

৪. পরীক্ষা ভিত্তিক সাজানো
বইটা শুধু সাধারণ জ্ঞান দেয় না, বরং পরীক্ষা অনুযায়ী সাজানো থাকে। যেমন, BCS-এ যেসব প্রশ্ন বেশি আসে, সেগুলো আলাদা করে হাইলাইট করা আছে। আবার ব্যাংক, প্রাইমারি, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার জন্য আলাদা টপিক সাজানো।
৫. বাস্তব জীবনের উদাহরণ
খন্দকার GK শুধু নাম-তারিখ মুখস্থ করায় না। বরং বাস্তব জীবনের সাথে মিলিয়ে ব্যাখ্যা দেয়। যেমন, “১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ” পড়লে শুধু তারিখ না, বরং কেমন ছিল মানুষের সংগ্রাম, সেটা অনুভব করা যায়। ফলে মনে রাখাটা সহজ হয়।
৬. শর্ট টেকনিকস
অনেক জটিল তথ্যও ছোট ছোট কৌশলে মনে রাখার ব্যবস্থা আছে। যেমন, কোন সালে কোন প্রধানমন্ত্রী শপথ নিলেন—এগুলো মনে রাখার জন্য বইয়ে মজার মজার ট্রিকস দেওয়া আছে।
৭. দ্রুত রিভিশন সাপোর্ট
পরীক্ষার আগে ছাত্ররা বড় বই পড়তে চায় না। তাই খন্দকার GK এর ভেতরে সংক্ষিপ্ত নোট, চার্ট, টেবিল, মাইন্ডম্যাপ আছে—যা দিয়ে একদিনেই গোটা বই রিভিশন করা যায়।
—
আরিফ যখন এই বই পড়তে শুরু করল, তখন প্রতিদিন সকালে উঠে ১ ঘণ্টা পড়ত। প্রথমে ছোট্ট করে পড়া শুরু করেছিল, কিন্তু বইয়ের গল্পময় ব্যাখ্যা তাকে টেনে নিয়ে গেল। এক মাস পরে সে টেস্ট দিল—আগে যেখানে সাধারণ জ্ঞানে ১০-১২ নাম্বার আসত, সেখানে এবার পেল ৩২।
মনে হলো—“হয়তো এবার আমিও পারব।”
তারপর ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাস বাড়তে লাগল। মা-বাবার চোখে আবার আশার আলো জ্বলে উঠল। আগে যেখানে রাত জেগে কাঁদত, এখন সে খাতায় খাতায় লিখে নোট নিচ্ছে।

